গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার আজ রাজধানীর জাতীয় পার্লার হলে 'ফ্লেক্স' নামে একটি নতুন কর্মস্থল নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। এই নীতি অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজের সময়সূচি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করতে পারবেন, যা কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মীর কাজ-জীবন সমন্বয়কে সহজতর করবে। প্রথম পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় অফিস এবং কিছু প্রধান সরকারি সংস্থায় এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে। সরকার এই পদক্ষেপকে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কর্মক্ষেত্রের সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে।
ফ্লেক্স নীতির পেছনে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা এবং বহু-বিভাগীয় সমন্বয় কাজের ফলাফল রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বহু সরকারি কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, যা কর্মক্ষমতা ও সন্তুষ্টি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে ঐ সময়ে প্রয়োগিত অস্থায়ী ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই না হওয়ায় সরকার কর্মস্থল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। শ্রম মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সংস্থা একত্রে নীতির খসড়া প্রস্তুত করে, যেখানে কাজের সময়ের নমনীয়তা, কর্মস্থল নির্বাচন এবং পারফরম্যান্স মূল্যায়নের নতুন মানদণ্ড নির্ধারিত হয়েছে।
নতুন নীতি সম্পর্কে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া মিশ্রিত হয়েছে। শ্রম মন্ত্রী শ্রীমতি রেহানা বেগম নীতিটিকে 'কর্মীর অধিকার রক্ষার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট উদাহরণ' বলে প্রশংসা করেছেন। সরকারি কর্মী ইউনিয়ন সভাপতি আবদুল হক জানান, 'ফ্লেক্সের মাধ্যমে আমরা কাজের সময়কে নিজের জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে পারব, তবে বাস্তবায়নে স্পষ্ট নির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন'। অন্যদিকে কিছু সংস্থার ব্যবস্থাপনা দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে কাজের সময়ের অতিরিক্ত স্বায়ত্তশাসন উৎপাদনশীলতা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাধারণ জনগণও এই নীতিকে কর্মসংস্থান বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
সরকার ইতিমধ্যে ফ্লেক্স নীতির প্রথম ধাপের জন্য একটি ত্রৈমাসিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়গুলোতে পাইলট প্রকল্প চালু হবে, যেখানে ডিজিটাল সময়সূচি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ইনস্টল করা হবে এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাস্তবায়নের পরপরই একটি ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে নীতির কার্যকারিতা, কর্মীর সন্তুষ্টি এবং উৎপাদনশীলতার ওপর নিয়মিত রিপোর্ট প্রকাশ করবে। দীর্ঘমেয়াদে ফ্লেক্স নীতি দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা কর্মস্থল সংস্কারকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।