প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
রাজনীতি

‘পাঁচ, পাঁচ–ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’, ফোনালাপ ফাঁসের পর যুব অধিকার সভাপতিকে বহিষ্কার

গত সপ্তাহে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুল হক (ভিপি নুর) কর্তৃক দেওয়া ‘পাঁচ, পাঁচ‑ই লাগবে’ নির্দেশে
প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Oct 5, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 12:18 PM
‘পাঁচ, পাঁচ–ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’, ফোনালাপ ফাঁসের পর যুব অধিকার সভাপতিকে বহিষ্কার

গত সপ্তাহে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুল হক (ভিপি নুর) কর্তৃক দেওয়া ‘পাঁচ, পাঁচ‑ই লাগবে’ নির্দেশের সঙ্গে যুক্ত একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়ে মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। রেকর্ডে দেখা যায়, নূর ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুব অধিকার সভাপতি রশিদুল ইসলাম (উদাহরণ নাম) একান্ত আলোচনায় দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। ফোনালাপে নূর ‘পাঁচ, পাঁচ‑ই লাগবে’ বলে নির্দেশ দেন, যার অর্থ কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা। রেকর্ডের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগের স্রোত বয়ে ওঠে।

এই ঘটনার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুব অধিকার সংস্থার সভাপতি রশিদুল ইসলাম অতীতেও মানবাধিকার ও যুব নীতি সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, যা সরকারী নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে। তবে তার কিছু সমালোচনামূলক মন্তব্য ও প্রতিবাদমূলক কার্যক্রমের ফলে পার্টি নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনো কখনো টানাপোড়া দেখা দিয়েছে। তদুপরি, নূর ভাইস প্রেসিডেন্টের ‘পাঁচ, পাঁচ‑ই লাগবে’ নির্দেশটি পূর্বে গৃহীত কোনো কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা পার্টির অভ্যন্তরীণ গঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত।

ফাঁসের পর নূর ভাইস প্রেসিডেন্টের অফিস দ্রুত একটি ব্যাখ্যা প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে রেকর্ডটি সম্পূর্ণভাবে সম্পাদিত এবং প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে, ফলে তা ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। রশিদুল ইসলাম নিজে একটি বিবৃতি জারি করে বলেন, তিনি কোনো অবৈধ নির্দেশ অনুসরণ করেননি এবং তার সঙ্গে কোনো গোপনীয় আলোচনা হয়নি। বিরোধী দল, বিশেষত বিএনপি, রেকর্ডের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি করে এবং নূরকে ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের জন্য দায়ী’ বলে অভিযুক্ত করে। মানবাধিকার সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীও এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে, জনমতকে সতর্ক করে যে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত নির্দেশনা জনসাধারণের ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে পার্টির শৃঙ্খলা কমিটি জরুরি সভা আহ্বান করে এবং রশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। শাসনকর্তা দল তার সিদ্ধান্তকে ‘দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়’ বলে সমর্থন জানায়, পাশাপাশি আইনগত দিক থেকে কোনো অপরাধের প্রমাণ না থাকলে আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা বাদ দেয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে পার্টির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ প্রোটোকল ও তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। শেষ পর্যন্ত, এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার দাবি বাড়িয়ে তুলবে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির সময় পার্টির কৌশলগত দিকনির্দেশনা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা উন্মোচিত করবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ