প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
দুর্নীতি

আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই: এএসআইয়ের বক্তব্য ভাইরাল

ঢাকা শহরের একটি পুলিশ স্টেশনের সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) কর্তৃক সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি নিজের পোশাক কেনার জন্য প্রাপ্ত ঘুষের টাকা ব্যবহার ক
প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Oct 5, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 12:11 PM
আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই: এএসআইয়ের বক্তব্য ভাইরাল

ঢাকা শহরের একটি পুলিশ স্টেশনের সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) কর্তৃক সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি নিজের পোশাক কেনার জন্য প্রাপ্ত ঘুষের টাকা ব্যবহার করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। ভিডিওতে এএসআই স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।” এই বক্তব্য দ্রুতই নেটজগতে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমতকে সাড়া জাগায়। ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থকে ব্যক্তিগত ব্যয় হিসেবে ব্যবহার করার এই স্বীকারোক্তি আইনগত ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। ঘটনাটির তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, এটি পুলিশ বাহিনীর স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

পুলিশ সংস্থার মধ্যে ঘুষের ঘটনা দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রেকর্ডে রয়েছে। পূর্বে বিভিন্ন মিডিয়া প্রতিবেদনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে নিম্নপদস্থ কর্মী পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষত নগরাঞ্চলে গৃহস্থালি, ট্রাফিক জরিমানা এবং অপরাধমূলক মামলায় অবৈধ অর্থপ্রাপ্তি ব্যাপকভাবে দেখা যায়। এ ধরনের অনুশীলন কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজকে দুর্বল করে না, বরং সাধারণ নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকেও হুমকির মুখে ফেলে। এএসআইর এই স্বীকারোক্তি পূর্বের অনুরূপ কেসের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা নির্দেশ করে যে ঘুষের নেটওয়ার্ক এখনও সংস্থার অভ্যন্তরে গোপনভাবে কার্যকর।

ভিডিওটি প্রকাশের পর নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংগঠন দ্রুতই নিন্দা জানায়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলিও ঘটনাটিকে ‘অবৈধ’ ও ‘দুর্নীতির চিহ্ন’ বলে সমালোচনা করে এবং তদন্তের দাবি করে। পুলিশ প্রধান অফিসার ঘটনাটির প্রতি ‘গভীর দুঃখ প্রকাশ’ করে এবং সংশ্লিষ্ট এএসআইকে অবিলম্বে ‘বৈধ প্রক্রিয়ার অধীনে’ শৃঙ্খলাবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঘটনার ফলে সরকারি সংস্থার প্রতি অবিশ্বাস বাড়ছে এবং ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সংস্কার দাবি তীব্রতর হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ তদন্তের জন্য পুলিশ বিভাগ বিশেষ দলে তদন্ত কমিশন গঠন করেছে এবং এএসআইকে ‘অস্থায়ীভাবে’ বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ ও ব্যবহার করেছেন, তবে শাস্তি হিসেবে কঠোর শাস্তি, যার মধ্যে পদত্যাগ ও আইনি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি, জাতীয় অ্যান্টি-করাপশন কমিশনকে এই মামলায় পর্যবেক্ষণকারী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ঘুষের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং অনলাইন অভিযোগ পোর্টাল চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ঘুষের শিকড় নির্মূল করে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ