প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
আন্তজাতিক

ইরানের হরমুজ প্রণালিতে গোপন টোল আদায়ের অভিযোগ: জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের মূল ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে ইরান গোপনে টোল আদায় করছে বলে সাম্প্রতিক তথ্যমালায় অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগটি আন্তর্জাতিক জাহা
প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Oct 6, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 12:13 PM
ইরানের হরমুজ প্রণালিতে গোপন টোল আদায়ের অভিযোগ: জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের মূল ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে ইরান গোপনে টোল আদায় করছে বলে সাম্প্রতিক তথ্যমালায় অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগটি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মহলগুলোতে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানি নৌবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের সদস্যরা প্রণালির নির্দিষ্ট অংশে জাহাজগুলোকে থামিয়ে অর্থ আদায় করছে। এই ঘটনাটি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে গভীর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই অস্থির পরিস্থিতিতে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি হলো পারস্য উপসাগর ও আরব সমুদ্রের সংযোগস্থল, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। ইরান এই প্রণালিকে তার জিওপলিটিক্যাল শক্তির একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। গত কয়েক বছর ধরে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জাহাজে অনুসরণ ও তল্লাশি চালিয়ে আসছে। তবে এবারের অভিযোগটি আরও গুরুতর, যেহেতু এতে সরাসরি অর্থ আদায়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তার অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে একটি নতুন দাবি তুলে ধরতে চাইছে।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাহাজের মালিক ও নাবিকরা নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছেন। অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে দীর্ঘ পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যা জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এটি একটি উদ্বেগজনক বিষয়, কারণ এটি সরাসরি আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে।

কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা ইরানকে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগকে অস্বীকার করলেও, প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়। বাংলাদেশের সরকারও এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো বিঘ্ন না এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ