দৃশ্যম ৩ চলচ্চিত্রটি মাত্র তিন দিনে দেশের কয়েকটি নির্বাচিত সিনেমা হলের পর্দায় প্রবেশের পরেই বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেছে। প্রাথমিকভাবে মাত্র পাঁচটি শহরে সীমিত স্ক্রিনে প্রদর্শিত হলেও, প্রথম সপ্তাহের শেষ নাগাদ মোট আয় ৩ কোটি টাকার বেশি রেকর্ড করেছে, যা একই সময়ে চলমান টম ক্রুজ‑ব্র্যাড পিটের হলিউড চলচ্চিত্রের আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে অধিক। এই সাফল্য দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং স্থানীয় উৎপাদনের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
চলচ্চিত্রের নির্মাণে অজয় চৌধুরী, যিনি পূর্বে বহু বাণিজ্যিক হিটের পেছনে ছিলেন, সম্পূর্ণ বাংলাদেশি কাস্ট ও ক্রু ব্যবহার করে একটি উচ্চমানের প্রযুক্তিগত কাঠামো গড়ে তুলেছেন। মুক্তির পূর্বে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালানো হলেও, সীমিত স্ক্রিনে প্রদর্শনের সিদ্ধান্তটি মূলত বাজারের চাহিদা ও দর্শকের প্রত্যাশা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে টম ক্রুজের "মিশন ইম্পসিবল" সিরিজের নতুন অংশ এবং ব্র্যাড পিটের "ইন্টারস্টেলার" পুনঃপ্রদর্শন দেশীয় বাজারে সমসাময়িকভাবে চলছিল, যা "দৃশ্যম ৩"-এর জন্য কঠিন প্রতিযোগিতা তৈরি করেছিল।
প্রযোজক রাহুল আহমেদ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, দর্শকরা মূলত গল্পের গভীরতা ও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতিফলনে আকৃষ্ট হয়েছে। সিনেমা হলের মালিকদের মতে, টিকিটের গড় মূল্য বাড়লেও পূর্ণবসতিতে দর্শকসংখ্যা স্থিতিশীলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলচ্চিত্র সমিতির সভাপতি শ্রীমতি নূরজাহান উল্লেখ করেছেন, "দৃশ্যম ৩" দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের স্বনির্ভরতা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। সামাজিক মিডিয়ায় দর্শকদের ইতিবাচক মন্তব্য ও রিভিউও বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে স্থানীয় চলচ্চিত্রের জন্য স্ক্রিনিং সুবিধা বৃদ্ধি ও কর সুবিধা প্রদান করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিএ) নতুন চলচ্চিত্রের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া, পরবর্তী মাসে জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো "দৃশ্যম ৩"-এর সাফল্যকে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।