প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
আন্তজাতিক

সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আজ সকালে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিজান প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি জানায়। হুতিরা দাবি করে যে, এই আক্রমণে সামরিক ঘ
প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 11:09 AM
সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আজ সকালে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিজান প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি জানায়। হুতিরা দাবি করে যে, এই আক্রমণে সামরিক ঘাঁটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত একাধিক সৈন্য নিহত হয়েছে। হুতিরা এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলের তাদের সাম্প্রতিক দখলকে উল্লেখ করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। এই দাবি তৎক্ষণাৎ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

হুতিরা গত কয়েক মাসে লোহিত সাগরের পুরো উপকূলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং মোখাও বন্দরনগরীকে দখল করে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে তাদের প্রভাব বিস্তৃত করেছে। বাব আল-মানদেব প্রণালির সম্পূর্ণ বন্ধের হুমকি তাদের কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, যা গ্লোবাল তেল ও গ্যাস পরিবহনকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত শিপিং লেন, এবং এর বন্ধ হওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিশাল ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। হুতিরা এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরবের সামরিক উপস্থিতি দুর্বল করার পাশাপাশি, তাদের রাজনৈতিক চাহিদা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে চায়।

হুতিরা তাদের দাবির পক্ষে দৃঢ়ভাবে বক্তব্য রাখে, যেখানে তারা উল্লেখ করে যে, সামরিক ঘাঁটির ক্ষতি তাদের প্রতিরোধের অংশ এবং সৌদি আরবের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া। অন্যদিকে, সৌদি আরবের সরকার এই দাবিকে অস্বীকার করে এবং জানায় যে, কোনো ধরনের আক্রমণ ঘটেনি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ কার্যকর রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও এই ঘটনার পর জরুরি বৈঠক আহ্বান করে, যেখানে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। শিপিং কোম্পানিগুলোও সতর্কতা জারি করে, যাত্রা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে এবং বিকল্প রুট অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দেয়। বাংলাদেশসহ বহু দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ এই রুটে নির্ভরশীল, ফলে দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থেও প্রভাব পড়তে পারে।

সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়ায় সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয় এবং হুতিরা উল্লেখিত বন্দরনগরীর ওপর নজরদারি শক্তিশালী করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও হুতিরা ও সৌদি আরবের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, দু'পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুপাক্ষিক সমন্বয় এবং মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে কোনো বড় ধাক্কা না লাগে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ