প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
জাতীয়

শিশুর কানে সংক্রমণ হলে কী করবেন

শিশুর কানে সংক্রমণ, যা অডিটিভ টিম্পোরাল অটোইনফেকশন নামেও পরিচিত, হঠাৎ করে শৈশবের প্রথম দুই বছর বয়সের শিশুরা অধিকাংশ সময়ে অভিজ্ঞতা করে। তীব্র ব্যথা, জ্বর, কান
প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Sep 27, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 10:52 AM
শিশুর কানে সংক্রমণ হলে কী করবেন

শিশুর কানে সংক্রমণ, যা অডিটিভ টিম্পোরাল অটোইনফেকশন নামেও পরিচিত, হঠাৎ করে শৈশবের প্রথম দুই বছর বয়সের শিশুরা অধিকাংশ সময়ে অভিজ্ঞতা করে। তীব্র ব্যথা, জ্বর, কান থেকে তরল নির্গমন এবং শোনার ক্ষমতা হ্রাসের মতো লক্ষণগুলো তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের উষ্ণমণ্ডলীয় মাসগুলোতে বায়ু দূষণ ও শীতলতা পরিবর্তনের ফলে কানের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, ফলে পিতামাতা ও সেবা প্রদানকারীদের দ্রুত সনাক্তকরণ ও উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব বাড়ে। এই ধরনের সংক্রমণ যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদী শোনার সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং শিশুর ভাষা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই, সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সনাক্ত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা জরুরি।

শিশুর কানের গঠনই এই সংক্রমণের মূল কারণ। কান ও গলার মাঝে সংযোগকারী নালি, অর্থাৎ ইউস্টাচিয়ান টিউব, শিশুদের ক্ষেত্রে ছোট, সরু এবং প্রায় সমান্তরাল অবস্থানে থাকে। এই টিউবের অস্বাভাবিক কোণ ও সংকীর্ণতা বায়ু প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে কানের মধ্যভাগে তরল জমা হয় এবং ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুর ইমিউন সিস্টেমও এখনও সম্পূর্ণ বিকাশ লাভ করেনি, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্তভাবে, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জি ইউস্টাচিয়ান টিউবের কার্যকারিতা হ্রাস করে, ফলে কানের সংক্রমণ আরও সহজে ঘটতে পারে।

শিশু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডাঃ রেহানা হাসান উল্লেখ করেন, “শিশুর কানে ব্যথা, জ্বর বা তরল নির্গমন দেখা দিলে অবিলম্বে পেডিয়াট্রিকিয়ানকে দেখানো উচিত। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ক্ষেত্রে কার্যকর এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ায়।” পিতামাতার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে বিভিন্ন এনজিও ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু হয়েছে। ঢাকা শহরের এক মা, সুমাইয়া বেগম, বলেন, “প্রথমে আমি গরম সেঁক দিয়ে শিশুকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ডাক্তার বললেন তা ক্ষতিকর হতে পারে। এখন আমি জানি, সঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ও কান পরিষ্কার করার পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।” এই ধরনের সংক্রমণ শিশুর দৈনন্দিন জীবনে বিশ্রাম, খাবার গ্রহণ এবং শিখন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে পরিবারিক আর্থিক ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘শিশু কানের স্বাস্থ্য’ শিরোনামে জাতীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে কানের সংক্রমণের প্রাথমিক সনাক্তকরণ, উপযুক্ত ওষুধের ব্যবহার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিশেষ পেডিয়াট্রিক কানের ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্সরা দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন। তদুপরি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শৈশব কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য কর্মীরা নিয়মিত কানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করবেন এবং পিতামাতাকে সঠিক পরিচর্যা পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করবেন। ভবিষ্যতে মাইক্রোফ্লুইড ডায়াগনস্টিক টেস্টের মাধ্যমে দ্রুত পয়েন্ট-অফ-কোর টেস্ট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সংক্রমণের কারণ নির্ণয়কে ত্বরান্বিত করবে এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ