ইরানের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের দাবি জানায়। ইরানি নৌবাহিনীর মুখপাত্র রসুল আলী হোসেনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, গত রাত ২২:৪৫ টায় ইরানি নৌবাহিনীর একক ড্রোন সনাক্ত করে তা অনুসরণ করে ড্রোনটি জব্দ করা হয়েছে। ইরান সরকার এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের রক্ষার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়, ফলে জব্দের ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা তীব্রতর হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২০% তেল বাণিজ্য প্রবাহিত হয়। অতীতেও এই প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের ছায়া দেখা গেছে; ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেল ট্যাঙ্কার ধ্বংসের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডারওয়াটার ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের নৌবাহিনীর গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ড্রোন জব্দের দাবি ইরানের জন্য কৌশলগত সাফল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ উভয়ই বয়ে আনতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ড্রোন জব্দের বিষয়ে একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইরানকে তার স্বার্থ রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ড্রোনের অস্তিত্ব ও জব্দের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে একটি নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এই ঘটনার ফলে গ্লোবাল তেল বাজারে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দেয়, শিপিং কোম্পানিগুলো রুট পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
ইরানি নৌবাহিনী ড্রোন জব্দের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, ড্রোনের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কূটনৈতিক আপত্তি জানিয়ে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারস্পরিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুপাক্ষিক নৌবাহিনীর সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও তথ্য শেয়ারিং প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা উন্মোচিত হয়েছে, যা অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।