সিডনি শহরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসকরা দুই দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলন আয়োজন করেছেন। এই সম্মেলন ২৮ ও ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি রোগ ও শিশু স্নায়ুরোগের সাম্প্রতিক চিকিৎসা অগ্রগতি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আলোচনার পরিসর বিস্তৃত হয় এবং রোগীর জীবনমান উন্নয়নে নতুন পদ্ধতির সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়। এই ধরনের বৈজ্ঞানিক মঞ্চের মাধ্যমে বাংলাদেশি চিকিৎসক সমাজের গবেষণা ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সংযোগের শক্তি প্রকাশ পায়।
এই সম্মেলনের পটভূমি হল, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসকগণ বহু বছর ধরে স্থানীয় হাসপাতাল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আসছেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা দেশীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখতে চেয়েছেন। পূর্বে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য শহরে সীমিত সংখ্যক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হলেও, বিদেশে বসবাসরত ডাক্তারদের সমন্বয়ে বৃহৎ মাত্রার বৈজ্ঞানিক সমাবেশের অভাব ছিল। তাই, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ড. রশিদুল ইসলাম ও ড. ফারহানা চৌধুরীর উদ্যোগে এই দুই দিনের সম্মেলন গঠন করা হয়, যাতে গবেষণা ফলাফল শেয়ার করা যায় এবং বাংলাদেশে প্রয়োগযোগ্য নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আলোচনা করা যায়।
সম্মেলনের আয়োজক কমিটি প্রধান, ড. রশিদুল ইসলাম বলেন, “হৃদরোগ ও ক্যান্সার রোগে নতুন থেরাপি ও ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি আমাদের দেশে দ্রুত প্রয়োগের জন্য এই ধরনের আন্তর্জাতিক মঞ্চ অপরিহার্য।” অংশগ্রহণকারী ড. সুমাইয়া হক, যিনি কিডনি রোগে বিশেষজ্ঞ, উল্লেখ করেন, “অস্ট্রেলিয়ায় প্রাপ্ত গবেষণা ফলাফল ও ক্লিনিকাল অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে রোগীর সেবা মানোন্নয়নে সরাসরি সহায়ক হবে।” এছাড়া, অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও তরুণ গবেষকরা সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশের সুযোগ পেয়ে দেশের গবেষণা পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশা করছেন। জনসাধারণের মধ্যেও এই সম্মেলনকে স্বাগত জানানো হয়েছে, কারণ এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগাবে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে ভবিষ্যতে এমন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফলাফলকে দেশীয় হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। মন্ত্রীর সহকারী, ড. নূরুল হক, উল্লেখ করেন, “সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা ফলাফল ও চিকিৎসা পদ্ধতি দ্রুত আমাদের নীতি নির্ধারক ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে রোগীর সেবা মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।” এছাড়া, মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে সমমানের বৈজ্ঞানিক সমাবেশের আয়োজনের জন্য তহবিল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশি চিকিৎসক সমাজের আন্তর্জাতিক সংযোগ শক্তিশালী হবে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে উঠবে।