গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা শহরের একটি স্টুডিও-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হিংসাত্মক হামলা সংঘটিত হয়। ১৮ জন সন্দেহভাজনকে পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করে, যদিও হামলার পরিকল্পনাকারীরা এখনও অধরা। হামলার সময় কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী রোগী ও কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়। ১৮ জন গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনদের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৬ জনকে আটক রাখা হয়। পুলিশ জানায় যে, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরি করা।
এই হামলার পেছনে কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া একটি গোপন সংগঠনের কাজ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পূর্বে শহরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এই মাত্রার হিংসা প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে। স্টুডিও-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থান শহরের কেন্দ্রীয় অংশে হওয়ায়, হামলাকারীরা সহজে পালাতে পারবে বলে মনে করেছিল। তবে পুলিশ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের প্রধান গোয়েন্দা জাহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা হামলার পরিকল্পনাকারীদের সন্ধানে আছি এবং তাদের ধরার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছি।” স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচালক মিসেস সুমন দত্তও ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “রোগীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্কের ছায়া পড়লেও, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা দ্রুত সহায়তা প্রদান করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেছেন।
কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে শহরের সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন চালানো। পুলিশ জানিয়েছে যে, হামলার পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সমন্বয় বাড়ানো হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে সুরক্ষা প্রোটোকল আপডেট করা হবে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য তথ্য প্রচার অভিযান চালানো হবে।