ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭, যাকে ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামে পরিচিত, স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ছুটির তালিকায় যুক্ত করেন। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার অধিকার স্বীকৃতি দেয় এবং ধর্মীয় সমন্বয়কে উৎসাহিত করে। স্বাক্ষরের পরই রাজ্য সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দুই দিনকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে প্রশংসিত হয় এবং কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে স্বতন্ত্র সময় পাবে, যা সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করবে।
‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ বিলটি প্রথমে সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি ২০২২ সালে উপস্থাপন করেন। হ্যানি উল্লেখ করেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান এবং তাদের ধর্মীয় চাহিদা পূরণে সরকারী নীতি সমন্বয় প্রয়োজন। পূর্বে, রাজ্যের ছুটির তালিকায় প্রধানত ক্রিসমাস, থ্যাঙ্কসগিভিং ও স্বাধীনতা দিবসের মতো ছুটি অন্তর্ভুক্ত ছিল; তবে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতিফলন হিসেবে হানির প্রস্তাবটি ব্যাপক সমর্থন পায়। আইনসভার বহু কমিটি এই বিলের প্রভাব বিশ্লেষণ করে, বিশেষত শিক্ষা ও শ্রম ক্ষেত্রের উপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে। শেষ পর্যন্ত, বিলটি একতরফা ভোটে পাশ হয়ে গ্যাভিন নিউজমের স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর হয়।
বিলের স্বাক্ষরের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম সংগঠনগুলো আনন্দের প্রকাশ করে এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানায়। সান ফ্রান্সিসকো মসজিদ কমিটি প্রধান মুহাম্মদ আলী বলেন, এই সিদ্ধান্তটি মুসলিম নাগরিকদের জন্য সমতা ও অন্তর্ভুক্তির প্রতীক। একই সঙ্গে, ব্যবসায়িক সমিতি কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করে, কারণ ছুটির দিন বাড়ার ফলে উৎপাদনশীলতা ও আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তনকে কর্মচারীর সন্তুষ্টি ও কর্মস্থলের নৈতিকতা উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখে। রাজনীতিবিদদের মধ্যে, ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা জেসিকা হোয়াইট এই পদক্ষেপকে “ধর্মীয় স্বাধীনতার সুনির্দিষ্ট উদাহরণ” বলে প্রশংসা করেন, আর রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্য এটিকে “অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয়” বলে সমালোচনা করেন। জনমত জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্যালিফোর্নিয়া বাসিন্দা এই ছুটির যুক্তিকে সমর্থন করেন।
গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের অফিস এখন এই দুই ছুটির বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সকল পাবলিক ও প্রাইভেট স্কুলে এই দিনগুলোকে বন্ধ রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করতে। কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কোম্পানিগুলোকে ছুটির বেতন ও কর্মসূচি সমন্বয়ের জন্য গাইডলাইন প্রদান করবে। এছাড়া, রাজ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ছুটির সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি করবে। ভবিষ্যতে, এই ধরণের ধর্মীয় ছুটি যুক্ত করার প্রস্তাব অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্যও বিবেচনা করা হতে পারে, যা ক্যালিফোর্নিয়ার বহুমুখী সমাজের মডেলকে আরও শক্তিশালী করবে।