প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
জাতীয়

আমি দেয়াল হব

গৃহমন্ত্রীর অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় দেশের সর্বত্র বন্যা‑বিপদে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করার লক্ষ্যে ‘আমি দেয়াল হব’ নামক এক ঐক্যবদ্ধ ক্যাম্পেইন
প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Sep 29, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 10:44 AM
আমি দেয়াল হব

গৃহমন্ত্রীর অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় দেশের সর্বত্র বন্যা‑বিপদে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করার লক্ষ্যে ‘আমি দেয়াল হব’ নামক এক ঐক্যবদ্ধ ক্যাম্পেইন চালু করেছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল নদী ও খালের তীরবর্তী এলাকায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে বন্যা‑ঝুঁকি হ্রাস করা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে ১,২০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা দেয়াল গড়ে তোলা হবে, যা দেশের বন্যা‑সংকট মোকাবেলায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে বন্যা‑বিপদের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে; ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে বিশাল পরিমাণে ক্ষতি ও প্রাণহানির প্রতিবেদন রয়েছে। পূর্বে সেতু ও বাঁধের মেরামত, ত্রাণকাজ এবং অস্থায়ী পাম্পিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান অনুপস্থিত ছিল। তাই সরকার এখন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে নদীর তীরবর্তী ভূমিতে কংক্রিট ও বালি‑মিশ্রিত সুরক্ষা দেয়াল গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করেছে, যা বন্যা‑জলকে সরাসরি প্রবেশ থেকে বাধা দেবে এবং কৃষি জমি ও বসতিগুলোকে রক্ষা করবে।

মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “এই প্রকল্পটি দেশের সর্বজনীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য, এবং ‘আমি দেয়াল হব’ স্লোগানটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ববোধকে তুলে ধরবে।” স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তারা আশা করে যে ভবিষ্যতে বন্যা‑জনিত ক্ষতি কমে তাদের জীবিকা রক্ষা পাবে। একদিকে, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সুরক্ষা দেয়ালের নকশা ও নির্মাণে পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নদীর প্রবাহ ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকে।

সরকার ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের জন্য ৪৫০ বিলিয়ন টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ত্বরিত কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্মাণ কাজের জন্য স্থানীয় শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের নিয়োগ করা হবে, এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ দেশীয় উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক সরবরাহের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, মন্ত্রণালয় বন্যা‑ঝুঁকি কমাতে সম্প্রদায় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করবে, যাতে জনগণ সঠিক সময়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হতে পারে। ভবিষ্যতে এই সুরক্ষা দেয়ালগুলোকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের সমগ্র নদী নেটওয়ার্ককে একত্রে রক্ষা করার ভিত্তি গড়ে তুলবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ