বিশ্বের অন্যতম পর্যটন আইকন আইফেল টাওয়ারের পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান নির্বাহী, বছরের শেষের দিকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। এই পদক্ষেপটি নারী কর্মীদের সরিয়ে পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব অর্পণ করার সিদ্ধান্তের পর তীব্র সমালোচনার মুখে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনার দ্রুত বিস্তার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত আলোচনার তীব্রতা, টাওয়ারের পরিচালন নীতি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রতি ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পদত্যাগের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ার প্রচুর প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, যা সংস্থার সুনাম ও পর্যটন শিল্পের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।
এই বিতর্কের পটভূমি হল গত মাসে সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আদেশে টাওয়ারের বিভিন্ন বিভাগে নারী কর্মীদের স্থানচ্যুতি করে, একই কাজের জন্য পুরুষ কর্মীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়। পূর্বে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নীতি অনুসরণ করা হলেও, এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনটি কর্মী সমিতি ও মানবাধিকার সংস্থার তীব্র প্রতিবাদ উস্কে দেয়। সংশ্লিষ্ট নীতির বৈধতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে বহু বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে কর্মস্থলে লিঙ্গ বৈষম্য নিষিদ্ধ করার আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জাতীয় শ্রম আইনের সরাসরি লঙ্ঘন ঘটেছে।
পদত্যাগের ঘোষণার পর প্রধান নির্বাহী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমি এই সংস্থার সেবা শেষ করতে চাই, কারণ আমার সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট অশান্তি ও কর্মীদের মধ্যে অবিশ্বাসের জন্য দুঃখিত।” কর্মী সমিতির প্রতিনিধিও প্রকাশ্যে টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অবহেলা ও লিঙ্গ সমতা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। সাধারণ জনগণ সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমর্থন ও সমালোচনা উভয়ই প্রকাশ করেছে; কিছু নাগরিক সংস্থার নীতি পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে কিছু পর্যটক এই ঘটনার ফলে টাওয়ারের ভিজিটের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছেন।
প্রতিক্রিয়ায় প্যারিসের মিউনিসিপাল কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা সংস্থার মানবসম্পদ নীতি ও লিঙ্গ সমতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করবে। এছাড়া, ফ্রান্সের শ্রম মন্ত্রণালয়ও সংশ্লিষ্ট আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি জানিয়েছে। ভবিষ্যতে সংস্থার নতুন প্রধান নির্বাহী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় লিঙ্গ সমতা ও নৈতিক নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি টাওয়ারের সুনাম পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পে ন্যায়সঙ্গত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।