প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
জাতীয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম বর্ষে, মানবিক বিজ্ঞান বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক জিনাত হুদা’কে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্ক
প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Sep 30, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 11:47 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম বর্ষে, মানবিক বিজ্ঞান বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক জিনাত হুদা’কে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের আদেশ ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে কার্যকর হয় এবং তার শিক্ষাদান, গবেষণা ও প্রশাসনিক দায়িত্বগুলো তৎক্ষণাৎ স্থগিত করা হয়। এই পদক্ষেপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারের মূল কারণ হিসেবে হুদা অধ্যাপকের একাধিক ক্লাসে অশোভন মন্তব্য ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুপযুক্ত আচরণ উল্লেখ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বহিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি জরুরি সভা আহ্বান করে, যেখানে শিক্ষার্থী গোষ্ঠী ও শিক্ষক সমিতি উপস্থিত হয়। এই সভায় বহিষ্কারের প্রক্রিয়া ও তার আইনি ভিত্তি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ শোনা হয়।

অধ্যাপক জিনাত হুদা ২০১১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করছেন এবং দেশের বহু শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একাডেমিক জগতে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিরোধ এবং ক্যাম্পাসে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে বহুবার সমালোচনার মুখে ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি একটি সেমিনারে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিতর্ক উস্কে দেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গৃহীত নীতিমালার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয় গৃহীত নীতি অনুযায়ী, শিক্ষকের অশোভন আচরণ বা শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা হুমকির ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়, যা এই বহিষ্কারের পেছনে মূল নীতিগত ভিত্তি।

বহিষ্কারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. মোহাম্মদ রশিদ চৌধুরী একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, “শিক্ষকের আচরণ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে; তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আমাদের দায়িত্ব।” জিনাত হুদা নিজে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন, “আমি আমার কাজের পদ্ধতি নিয়ে কোনো ভুল স্বীকার করছি না; তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার কথোপকথনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।” শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন সভাপতি রাব্বি হক জানান, “আমরা শিক্ষকের ন্যায়সঙ্গত আচরণ প্রত্যাশা করি, তবে শিক্ষার্থীর অধিকার রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপের স্বাগত জানাই।” এই ঘটনায় সাধারণ জনগণও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করে, কিছুজন শিক্ষকের স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে, অন্যরা শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে সাড়া দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার সদস্য হিসেবে আইনশাস্ত্রের অধ্যাপক, মানবিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক এবং স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটি দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, ঢাকা উচ্চ আদালতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা শাস্তি সংক্রান্ত মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় আইনি দল প্রস্তুত করছে, যাতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে শাস্তি কার্যকর করা যায়। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে অনুরূপ ঘটনা রোধে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ