২০০২ সালে স্বামী সাইদুর রহমানের হঠাৎ হত্যাকাণ্ডের পর, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হন। এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য মোড় হিসেবে বিবেচিত, কারণ তিনি প্রথমবারের মতো এক নারী হিসেবে পুরো ঢাকা শহরের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হন। তার নির্বাচনের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব ছিল দু’গুণে—একদিকে স্বামী হত্যার শোকের পরিপ্রেক্ষিতে তার দৃঢ়তা ও ন্যায়বোধের প্রকাশ, অন্যদিকে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন।
সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশে ঢাকা শহরে বহু পার্টি ও গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। স্বামী সাইদুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের অভিযোগ তীব্রভাবে উত্থাপিত হয়, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে ফেরদৌসী মিষ্টি, যিনি পূর্বে সামাজিক কাজকর্মে সক্রিয় ছিলেন, স্বেচ্ছায় রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশ করেন। তার নির্বাচনী প্রচারাভিযান মূলত স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং নারী ক্ষমতায়নের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল; ফলে তিনি ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করেন।
নির্বাচনের পর ফেরদৌসী মিষ্টি বিভিন্ন মিডিয়াতে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি “শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবা গুণগত মান বৃদ্ধি এবং নারীর অধিকার রক্ষায় অটল থাকব” বলে উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্যের প্রতি বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ, সমালোচনামূলক মন্তব্য করে, তবে একই সঙ্গে তার নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে স্বীকৃতি দেয়। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোও তার নীতি-নির্ধারণে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়, এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী তার প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে আশাবাদী।
কর্তৃপক্ষের দিক থেকে, নতুন কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করে। বর্তমান পরিকল্পনায় রাস্তা পুনর্নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া, নারী কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ফেরদৌসী মিষ্টি তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে শহরের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবেন, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নারীর ভূমিকা শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।