প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
nationaldailyamaderdesh.com
nationaldailyamaderdesh.com ঢাকা মিরপুর.১০
01880008666 | nationaldailyamaderdesh@gmail.com
জাতীয়

লাউয়াছড়ায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের বগি বিচ্ছিন্ন, চার ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু

রবিবার বিকাল প্রায় ১৪:৩০ টায় লাউয়াছড়ার নিকটবর্তী রেলওয়ে পয়েন্টে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের একটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে রেলপথে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ রেলওয়ে কর
প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক আমাদের🔳দেশ প্রকাশ: Oct 2, 2026 প্রিন্ট: 08 Nov 2026, 11:48 AM
লাউয়াছড়ায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের বগি বিচ্ছিন্ন, চার ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু

রবিবার বিকাল প্রায় ১৪:৩০ টায় লাউয়াছড়ার নিকটবর্তী রেলওয়ে পয়েন্টে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের একটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে রেলপথে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ রেলওয়ে কর্মী ও জরুরি সেবা দল পৌঁছায় এবং বিচ্ছিন্ন বগি সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বিচ্ছিন্নতার ফলে ট্রেনটি অস্থায়ীভাবে থেমে থাকে এবং যাত্রীদের মধ্যে অল্প পরিমাণে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। কোনো প্রাণঘাতী বা গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট না থাকলেও, কয়েকজন যাত্রী হালকা আঘাত পেয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। চার ঘণ্টা পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে এবং সেবা পুনরায় চালু করে।

এই ধরনের দুর্ঘটনা রেলওয়ে নেটওয়ার্কে অতীতেও ঘটেছে; গত বছরই একই রুটে বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা রেকর্ডে রয়েছে। রেলওয়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটির নিয়মিত পর্যালোচনা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলমান। রেলওয়ে বিভাগে পুরনো রেলপথের অবনতি, বয়সজনিত যন্ত্রপাতির ক্ষয় এবং সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেমের আধুনিকায়ন ও ট্র্যাকের স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগের দাবি উত্থাপিত হয়েছে।

ঘটনা ঘটার পর রেলওয়ে বিভাগের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ রশিদ আহমেদ জানান, “বগি বিচ্ছিন্ন হওয়া একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা, তবে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।” স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, “এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে রেলওয়ে রক্ষণাবেক্ষণে ত্বরান্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে জনসাধারণের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হবে।” যাত্রীদের মধ্যে একদল ভুক্তভোগী রশিদুল হক জানান, “ট্রেন থেমে যাওয়ায় আমরা অল্প সময়ের জন্য অস্বস্তিতে পড়েছিলাম, তবে রেলওয়ে কর্মীদের দ্রুত কাজের প্রশংসা করছি।” স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংস্থাও ট্রেনের বন্ধের ফলে সৃষ্ট বাণিজ্যিক ক্ষতি উল্লেখ করে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পুনরায় চালু হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন।

রেলওয়ে বিভাগ ঘটনাস্থলে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার প্রধান সদস্য হিসেবে রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী বগি বিচ্ছিন্নের মূল কারণ নির্ণয় করে সংশ্লিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী ও সরঞ্জামগুলোর উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, রেলওয়ে নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃপর্যালোচনা, ট্র্যাকের নিয়মিত ত্রুটি সনাক্তকরণ ও রিমোট মনিটরিং সিস্টেমের স্থাপন দ্রুততর করা হবে। ভবিষ্যতে রেলওয়ে বিভাগ নতুন রেলপথের আধুনিকায়ন ও পুরনো রেলপথের পুনর্নির্মাণে তহবিল বরাদ্দের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটে এবং রেলযাত্রীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ স্তরে নিশ্চিত করা যায়।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ