গতকাল শনিবার রাত চেন্নাই শহরের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও-কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাও, যিনি ‘পুষ্পক বিমানম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন, ৭২ বছর বয়সে এই পৃথিবী ত্যাগ করেছেন। তার অকাল মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে এবং সমসাময়িক চলচ্চিত্র নির্মাণে তার অবদানকে স্মরণীয় করে তুলেছে। সংবাদমাধ্যমে দ্রুতই তার মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা চলচ্চিত্র প্রেমিক ও শিল্পের বিভিন্ন স্তরে শোকের পরিবেশ তৈরি করে।
শ্রীনিবাস রাও ১৯৫২ সালে তেলেঙ্গানার ছোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং প্রাথমিকভাবে সঙ্গীত ও নাট্যকলায় আগ্রহী ছিলেন। ১৯৭০ দশকে তিনি কলকাতা চলচ্চিত্র একাডেমিতে ভর্তি হয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের তত্ত্ব ও প্রয়োগ শিখেন। তার প্রথম স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র ‘মধুরা’ ১৯৮১ সালে মুক্তি পায়, যা বাণিজ্যিক সাফল্য এবং সমালোচনামূলক প্রশংসা দুটোই অর্জন করে। এরপর ‘পুষ্পক বিমানম’ (১৯৯৪) তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছায়; এই চলচ্চিত্রটি মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সমতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক বার্তা দিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বীকৃতি পায়। রাও মোট ২৫টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে বহু জাতীয় পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপদক জয়ী হয়েছে।
রাওয়ের মৃত্যুর পর ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শোক প্রকাশ করেছেন। বোলিভুডের প্রখ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন টুইটারে রাওকে “চলচ্চিত্রের সত্যিকারের দৃষ্টান্ত” বলে উল্লেখ করেন এবং তার সৃজনশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হবে বলে মন্তব্য করেন। তদুপরি, চেন্নাই চলচ্চিত্র সমিতির সভাপতি মেহতা রায়ানী রাওয়ের অবদানকে “দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় চলচ্চিত্রের গৌরব বৃদ্ধি” হিসেবে বর্ণনা করেন। রাওয়ের পরিবারও শোকের সঙ্গে সঙ্গে তার কর্মজীবনের সাফল্য ও সমাজসেবার কথা তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
চেন্নাই শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ রাওয়ের মৃত্যুর কারণকে হৃদরোগ সংক্রান্ত জটিলতা হিসেবে জানিয়ে দিয়েছে এবং মৃত্যুর পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। রাওয়ের দেহকে চেন্নাইয়ের সেন্ট মার্টিনস গির্জার সমাধিস্থলে দাফন করা হবে, যেখানে শিল্পের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তদুপরি, ভারতীয় চলচ্চিত্র সংস্থা রাওয়ের স্মৃতিতে একটি বার্ষিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা তার সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক বার্তা প্রচার করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাওয়ের শিল্পকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত হবে এবং চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।