সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদ ও দাবি শেষে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ আলী হককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবিদ, ছাত্র-ছাত্রী এবং নাগরিক সমাজের সমর্থনসহ মিডিয়ার ধারাবাহিক চাপের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। অব্যাহতির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহীত অতিরিক্ত কয়েকটি সিদ্ধান্তও প্রকাশিত হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র অডিট কমিটি গঠন এবং শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশেষ কমিশন প্রতিষ্ঠা। এই ঘটনাটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি জনসাধারণের বাড়তে থাকা প্রত্যাশা প্রকাশ করে।
প্রাধ্যক্ষের অব্যাহতির পেছনে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের ইতিহাস রয়েছে। গত বছরের শুরুর দিকে হক প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়মিত ভর্তি প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার্থী অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ছাত্র সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা প্রতিবাদ রেলায়, যা মিডিয়ার দৃষ্টিতে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তদুপরি, হক প্রাধ্যক্ষের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগে শিক্ষার মান হ্রাস এবং গবেষণা তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের দাবি উঠে আসে। এসব বিষয়ের সমন্বয়ে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে শিক্ষাবিদ, ছাত্র এবং সাংবাদিক একত্রে প্রশাসনের ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।
সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আহমেদুল হক বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের অব্যাহতি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত পদক্ষেপ নয়; এটি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত’। শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি রিয়া সুলতানা জানান, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ পরিচালনা চাইছি; আজকের এই সিদ্ধান্ত আমাদের আশা পুনরুজ্জীবিত করেছে’। অপরদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. সুমাইয়া বেগম উল্লেখ করেন, ‘প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এখন একটি অস্থায়ী প্রাধ্যক্ষ নিয়োগের কাজ চলছে’। হক প্রাধ্যক্ষের আইনজীবীও মন্তব্য করেন, ‘অবশ্যই তিনি অব্যাহতি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি দাবি করেন যে এই সিদ্ধান্তে যথাযথ প্রমাণের অভাব রয়েছে’। এসব মন্তব্যের পর জনমত মিডিয়ায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়, যদিও কিছু অংশে এখনও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা প্রকাশ করে।
প্রশাসন অব্যাহতির সঙ্গে সঙ্গে একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার সদস্য হিসেবে বিচারিক, একাডেমিক এবং সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত। এই কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে এবং প্রাধ্যক্ষের অব্যাহতির কারণ ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিশদ বিশ্লেষণ করবে। তদুপরি, বিশ্ববিদ্যালয় অস্থায়ীভাবে ড. রাবিয়া সুলতানা, যিনি পূর্বে ডিন হিসেবে কাজ করেছেন,কে প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গুণগত মান উন্নয়নের জন্য একটি নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ভর্তি সিস্টেম, আর্থিক ব্যয় রিপোর্টের পাবলিক প্রকাশনা এবং শিক্ষার্থী অধিকার রক্ষার জন্য একটি হটলাইন। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন শিক্ষার মান ও জনবিশ্বাস পুনর্স্থাপন করার লক্ষ্য রাখে।