রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাবি (রিসার্চ অ্যান্ড ব্যুরো) ভবনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হিংসাত্মক হামলা ঘটার পর দেশব্যাপী তীব্র নিন্দা প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনাটি গত সপ্তাহের শেষের দিকে ঘটেছে, যেখানে কয়েকজন সাংবাদিককে শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য কর্মী ও শিক্ষার্থীরাও আক্রমণকে নিন্দা করে, এবং তৎক্ষণাৎ পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এই আক্রমণ সাংবাদিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মৌলিক নীতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি স্বরূপ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। পূর্বে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুরূপ হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সাংবাদিক ও গবেষকরা লক্ষ্যবস্তু হয়ে আঘাত পেয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে রাবি হামলা কেবল একক ঘটনা নয়, বরং ছাত্রদলের মধ্যে শৃঙ্খলা হীনতা ও ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি চরম উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং আইনগত প্রয়োগের দুর্বলতা এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বাধা সৃষ্টি করেছে।
ডাক্কা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে জোরালোভাবে জড়িত সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছে। সমিতির সভাপতি বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর এই ধরনের হিংসা আমাদের গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে; অপরাধীদের কঠোর শাস্তি না দিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।” এছাড়া, জাতীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংস্থা ও সাধারণ জনগণও সমানভাবে নিন্দা প্রকাশ করে, এবং দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার চায়। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অধিকাংশ মন্তব্যকারী নিরাপদ সাংবাদিক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
প্রতিক্রিয়াস্বরূপ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড মোতায়েন করেছে এবং পুলিশকে সম্পূর্ণ তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সদস্য হিসেবে আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের শাস্তি কঠোর করতে নতুন নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। ডুজা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়ে, তবে জোর দিয়ে দাবি করেছে যে, শাস্তি বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।