গত সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলের এক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তিথি মালিতে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, জিপিএ-৫ শর্ত পূরণ না করলেও স্থানীয় রেজিস্ট্রার কর্তৃক বিবাহ নিবন্ধন বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত করে, কারণ শিক্ষা মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছিন্নতা ও সামাজিক উন্নয়নকে সমর্থন করার নীতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে পার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও সামাজিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য প্রদান করেন।
বিবাহের পূর্বে জিপিএ-৫ শর্তটি ২০১৯ সালে গৃহীত 'শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার পরিকল্পনা' এর অংশ হিসেবে প্রণয়ন করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষিত যুবক-যুবতীকে সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সের বিবাহ হ্রাস করা। তবে ঐ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী রীতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংঘাত দেখা দেয়। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তিথি মালি, যা ঐ সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডার, প্রায়শই সরকারী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি করে।
এই ঘটনার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রধান কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, 'শিক্ষা মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিবাহ বাধা দেওয়া সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে, তবে তা স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান ও সংবেদনশীলতা বজায় রেখে করা উচিত'। স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও সমাজকর্মীও সমানভাবে মত প্রকাশ করেন; কিছু নেতা শর্ত পূরণ না করা সত্ত্বেও বিবাহকে বৈধ বলে গণ্য করেন, অন্যদিকে কিছু সমাজকর্মী শিক্ষার গুরুত্ব জোর দিয়ে শর্তের কঠোর প্রয়োগের পক্ষে মত দেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে বিভাজন দেখা যায়, যেখানে কিছু পরিবার শিক্ষাগত মানদণ্ডকে অগ্রাধিকার দেয়, আবার অন্যরা ঐতিহ্যবাহী রীতি বজায় রাখতে চায়।
সরকারি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় ঐতিহ্য ও জাতীয় নীতি সমন্বয় করে একটি সমন্বিত নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামাজিক কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নীতি পর্যালোচনা ও সংশোধনের আলোচনা হবে। এছাড়া, জিপিএ-৫ শর্তের প্রয়োগে নমনীয়তা আনার জন্য বিশেষ অনুমোদন প্রক্রিয়া গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার অভাবের কারণে অযৌক্তিকভাবে বিবাহ বাধা না হয়। এই পদক্ষেপগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সংহতি ও মানবাধিকার রক্ষার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।