ঢাকা – ছোট উদ্যোক্তারা ব্যাংককে অনুরোধ করেছে যে তারা ব্যাংক হিসাব খোলার সময় মূল্য সংযোজন করের নিবন্ধন থেকে অব্যাহতি পান। ২০২৪ সালের মার্চে ঢাকা ব্যাংক সমিতি (DBS) একটি চিঠি পাঠায় যেখানে বলা হয় যে, ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্য সংযোজন করের আওতায় পড়ছে, যা তাদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৫ লক্ষ টাকার কম আয়ের উদ্যোক্তারা কর নিবন্ধন থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন, তবু ব্যাংকগুলো তা মেনে নেয়নি। এই দাবির ফলে ব্যাংকিং খাতে একটি নতুন বিতর্ক উন্মোচিত হয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর আইন অনুযায়ী, বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার কম হলে কর নিবন্ধন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকগুলো গ্রাহক পরিচয় যাচাইয়ের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর নিবন্ধন ফর্ম পূরণ করে, যা ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র ও ফি তৈরি করে। ব্যাংক সমিতি যুক্তি দিয়েছে যে, এই প্রক্রিয়া ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য অনাবশ্যক ব্যয় এবং তাদের ব্যাংকিং সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত করে। পূর্বে ২০১৯ সালে সরকার ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড়ের ব্যবস্থা করেছিল, কিন্তু ব্যাংকিং খাতে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
ব্যাংক সমিতির সভাপতি মেহমুদ হোসেন বলেন, “আমরা ব্যাংকিং সেবা সহজতর করতে চাই, কিন্তু কর নিবন্ধন প্রক্রিয়া ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” উদ্যোক্তা মিশরী মিসেস ফারহানা বলেন, “আমাদের অনেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে কর নিবন্ধন ফি দিতে হয়, যা আমাদের নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি করে।” সরকারী কর্মকর্তা মি. রাকিবুল ইসলাম জানান, “আমরা এই সমস্যাটি গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি এবং ব্যাংকগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার চেষ্টা করছি।” এই দাবির ফলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, ছোট উদ্যোক্তাদের করের বোঝা কমালে তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক (CBN) ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক পরিচয় যাচাইয়ের সময় কর নিবন্ধন ফর্ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ না করে গ্রাহকের আয় যাচাই করে অব্যাহতি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, ব্যাংকগুলোকে একটি অনলাইন পোর্টাল তৈরি করতে হবে যেখানে উদ্যোক্তারা সরাসরি কর অব্যাহতি আবেদন করতে পারবেন। ভবিষ্যতে সরকার ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড়ের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে তারা ব্যাংকিং সেবা সহজে পেতে পারে এবং অর্থনীতিতে তাদের অবদান বাড়ে। এই পদক্ষেপগুলো ছোট উদ্যোক্তাদের আর্থিক চাপ কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।