বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছেন। এই বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত ঘটমান সন্ত্রাস, সম্পত্তি দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনাদের সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বিবৃতিদাতারা দাবি করেছেন, বর্তমান সময়ের এই আইনহীনতা ও দুর্নীতির জাল বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কোনো আলাদা ঘটনা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের ওপর আরও গভীর প্রভাব পড়বে। এই উদ্বেগ প্রকাশকারীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সামাজিক কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত, যারা জনগণের স্বার্থ রক্ষায় নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় ও মহানগরীতে সন্ত্রাসী হামলা, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল এবং ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে। এই ঘটনাদের পেছনে শাসক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল, পতিত সরকারের সশস্ত্র অনুসারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অংশ সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বিবৃতিদাতারা দাবি করেন, এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করা এবং জনগণের মধ্যে ভয়-ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি, কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের এই অপরাধমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা বা নীরবতার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে, যা দেশের আইনি ব্যবস্থার ওপর প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট নাগরিকরা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ফলে দেশের সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকরা অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা নিরাপদে কাজ করতে পারছেন না এবং তাদের সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় দিনরাত উদ্বিগ্ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে এই আইনহীনতার প্রভাব পড়ছে, যা অর্থনৈতিক সন্তানকেও বিঘ্নিত করছে। বিবৃতিদাতারা দাবি করেছেন, সরকারের উচিত এই বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। তারা আরও বলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিতে আঘাত হানার সমতুল্য। জনগণের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সামাজিক শান্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট নিয়ে বিবৃতিদাতারা দাবি করেছেন, সরকারের উচিত এই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সম্মান করে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতা অর্জন করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি সরকার এই উদ্বেগগুলো উপেক্ষা করে, তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তারা সরকারকে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিবৃতি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং এটি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশকে নতুন করে গঠন করার আহ্বান হিসেবে গণ্য হচ্ছে।