স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হাবিবুর রহমান আজ (তারিখ) জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে দেশের সামরিক নীতি সমন্বয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পূর্বে প্রণীত 'যৌথ অভিযান' পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এখন সব বাহিনী—সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও গৃহসুরক্ষা—কে একত্রিত করে সমন্বিত অভিযানের রূপরেখা তৈরি করা হবে। মন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠন ও বহুমুখী হুমকির মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের সূচক।
বছরব্যাপী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বহুবার সমন্বিত প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়নের কথা উল্লেখ করেছে। ২০১৯ সালে গৃহীত 'যৌথ অভিযান' পরিকল্পনা মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে একাধিক বাহিনীর সমন্বয়কে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল, তবে বাস্তবায়নে কাঠামোগত অমিল ও সমন্বয় সমস্যার কারণে তা সীমিত ফলাফল দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার হুমকি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ এবং আঞ্চলিক শক্তি প্রতিযোগিতার উত্থান নতুন নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছে, যা একক বাহিনীর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
মন্ত্রীর মন্তব্যের পরপরই সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুল করিম জানিয়েছেন যে, সব বাহিনীর সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও তথ্য শেয়ারিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিশেষ কর্মদল গঠন করা হবে এবং তা দ্রুত কার্যকর করা হবে। বিরোধী দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই সরকারের এই উদ্যোগকে প্রশংসা করে, তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, সমন্বিত অভিযানের বাস্তবায়নে বাজেটের যথাযথ বরাদ্দ ও আইনি কাঠামোর স্পষ্টতা প্রয়োজন। সাধারণ জনগণও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও সীমান্ত অঞ্চলে দ্রুত সেবা পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছে।
এখন পর্যন্ত সরকার ইতিমধ্যে নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং গৃহসুরক্ষা বিভাগের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয়িক সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে এবং আগামী মাসে প্রথম সমন্বিত প্রশিক্ষণ শিবিরের সূচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে সমন্বিত কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা রিয়েল-টাইম তথ্য শেয়ারিংকে সহজ করবে। ভবিষ্যতে এই সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে দেশের সীমানা রক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা একসাথে উন্নত হবে বলে সরকারী সূত্রে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।