২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাঝে আবু সাঈদ নামের শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। আদালত রায়ে বেরোবির তিনজন শিক্ষকসহ মোট এগারোজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে স্থায়ী বহিষ্কারের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বৈষম্যবিরোধী প্রতিবাদ ২০১৯ সাল থেকে চলমান, যেখানে শিক্ষার্থীরা জাতিগত ও ধর্মীয় সমতা চাচ্ছিল। আবু সাঈদ, যিনি কিশোর বয়সের, তার পরিবার ও সহপাঠীরা দাবি করেন যে তিনি নির্দোষভাবে প্রতিবাদের অংশ ছিলেন। পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল, যা এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের রায়ের পর শিক্ষার্থী সংগঠনের নেতা ও পরিবার সদস্যরা আদালতের সিদ্ধান্তকে ন্যায়সঙ্গত বলে প্রশংসা করেন। তবে কিছু শিক্ষার্থী ও পিতামাতা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে বহিষ্কারের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত হবে কিনা। রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রী এই ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করার আহ্বান জানান।
কর্তৃপক্ষ এখন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করছে এবং নতুন নীতি প্রণয়ন করছে। আদালত রায়ে নির্দেশ দিয়েছে যে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট ও শিক্ষার্থীদের অধিকার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি জাতীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী বছরের মধ্যে কার্যকর হবে।