রণবীর ও আলিয়ার যৌথ রোমান্টিক ছবি ‘প্রেমের সুর’ গতকাল সন্ধ্যায় দেশের প্রধান সিনেমা হলগুলোতে প্রকাশ পেয়ে বিশাল জনসাধারণের আগ্রহ জাগিয়েছে। চলচ্চিত্রের প্রথম দিনেই টিকিট বিক্রয় দ্রুত শেষ হয়ে গিয়েছে এবং দর্শকগণ ছবির গানের সুর ও গল্পের গঠন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। এই চলচ্চিত্রটি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন রোমান্টিক ধারার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। প্রকাশের পরপরই সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ছবির সম্পর্কে বিশদ বিশ্লেষণ ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এই ছবির উৎপাদন কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন সুপরিচিত নির্দেশক মুহাম্মদ রশিদ, যিনি পূর্বে ‘আকাশের ছোঁয়া’ ও ‘মধুর স্মৃতি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমালোচনামূলক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। ছবির চিত্রগ্রহণ প্রধানত ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সুন্দরী উপকূলীয় শহর চট্টগ্রামের দৃশ্যপটে সম্পন্ন হয়েছে, যা রোমান্টিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। স্ক্রিপ্টটি তরুণ লেখক সুমন আহমেদ রচনা করেছেন, যিনি আধুনিক প্রেমের জটিলতা ও সামাজিক বাধা নিয়ে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন। চলচ্চিত্রের সঙ্গীত রচনা করেছেন প্রখ্যাত সুরকার রাহুল চৌধুরী, যাঁর সুরে বাঙালির হৃদয়ে গভীর সাড়া জাগে।
প্রকাশের পরপরই পরিচালক রশিদ প্রকাশনা সম্মেলনে ছবির মূল উদ্দেশ্য ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রেমের সুর’ আধুনিক যুগের প্রেমের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টা। রণবীর ও আলিয়া দুজনই সাক্ষাৎকারে ছবির চরিত্রে নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি যুক্ত করার কথা উল্লেখ করে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা ছবির পোস্টার ও গানকে ব্যাপকভাবে শেয়ার করে ইতিবাচক মন্তব্য প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চলচ্চিত্রের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র সঞ্চালন বোর্ড ছবিটিকে ‘সুপ্রতিষ্ঠিত’ রেটিং প্রদান করেছে এবং সকল বয়সের দর্শকের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করেছে। বিতরণ সংস্থা ‘বাংলা সিনেমা বিতরণ’ ছবির প্রচার ও প্রদর্শনী পরিকল্পনা করে দেশের প্রতিটি প্রধান শহরে একাধিক স্ক্রিনে সমান্তরালভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে। সরকারী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এই ধরনের উচ্চমানের রোমান্টিক প্রকল্পকে উৎসাহিত করার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করার কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধিশালী রোমান্টিক চলচ্চিত্রের উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে।