বিশেষ প্রতিনিধি: মোস্তাক আহমেদ বাপ্পি
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। একই আন্তর্জাতিক পরিসরে একদিকে বাংলাদেশের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অন্যদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তাঁদের উপস্থিতি জাতিসংঘে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘ চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। পরে ৮ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের নতুন ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন।ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের অন্যতম ভাবনা হলো—তরুণরা শুধু চাকরির সন্ধান করবে না, বরং উদ্যোক্তা হয়ে নিজের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। সেই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটিকে উদ্যোক্তাভিত্তিক শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের কার্যক্রমে আস্থা পুনর্গঠন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।তাঁর সভাপতিত্বাধীন অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’। সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের একই পরিসরে বাংলাদেশের একজন নোবেলজয়ী এবং একজন বাংলাদেশি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে উপস্থিতি দেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।