আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের উত্তর‑পশ্চিমে অবস্থিত গুজরাত প্রদেশে গত রাত্রি পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর আক্রমণাত্মক গুলিবর্ষণ ঘটেছে বলে দেশের সরকার দাবি করেছে। আক্রমণে নারী ও শিশুসহ মোট নয়জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, আর আরও কয়েকজন গুরুতর আঘাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আফগান সরকার তৎক্ষণাৎ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং তাৎক্ষণিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির করে তুলেছে এবং সীমান্ত পারাপার উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তান‑আফগানিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহুবার সশস্ত্র সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পূর্বে দু’দেশের মধ্যে সীমান্তে গুলিবর্ষণ, গোপন অপারেশন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থন সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। এই প্রেক্ষাপটে গুজরাত প্রদেশে ঘটিত এই হামলা পূর্বের অনুরূপ ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে কঠোর নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দায়বদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, “নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রত্যেক দেশের মৌলিক দায়িত্ব, এবং এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।” পাকিস্তানি সরকার এই অভিযোগকে অস্বীকার করে, বলেছে যে কোনো সামরিক কার্যক্রমের কোনো প্রমাণ নেই এবং এ ধরনের অভিযোগকে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। স্থানীয় নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সহায়তা আহ্বান করেছে।
বর্তমানে উভয় দেশই স্বতন্ত্রভাবে তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে; আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সহায়তায় স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, আর পাকিস্তানও নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই ঘটনার ওপর আলোচনা চালু হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে, তাই সীমান্ত সংলাপ ও পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠনই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের মূল চাবিকাঠি।