ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গ্রহণ আজ রোববার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মোট তেরজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। লুলা দা সিলভা, বামপন্থী কর্মসূচি ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে প্রচার চালিয়ে আসছেন, আর বলসোনারো, রক্ষণশীল নীতি ও অর্থনৈতিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভোটারকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। আজকের ভোট গ্রহণ দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ গঠনে মূল চাবিকাঠি হবে।
ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাম্প্রতিক দশকে তীব্র বিভাজন দেখা গেছে। লুলা দা সিলভা ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত দু'বার প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তার সময়ে দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক কল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়। তবে তার শাসনামলে দুর্নীতি স্ক্যান্ডেল ও অর্থনৈতিক মন্দার অভিযোগও উঠে আসে। অন্যদিকে, বলসোনারো ২০১৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাজারমুক্ত নীতি, পরিবেশগত নিয়ম শিথিলকরণ এবং সশস্ত্র নিরাপত্তা জোরদার করার মাধ্যমে সমর্থকদের আস্থা অর্জন করেছেন। তবে তার শাসনামলে পরিবেশ সংরক্ষণে অবহেলা, আদিবাসী অধিকার লঙ্ঘন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাসের সমালোচনা তীব্রভাবে শোনা যায়। এই পটভূমিতে আজকের ভোট গ্রহণ দেশের অভ্যন্তরীণ সমতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লুলা দা সিলভা নির্বাচনী প্রচারাভিযানে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নকে মূল প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, “ব্রাজিলের সমৃদ্ধি সকলের জন্য হতে হবে, ধনী ও গরিবের মধ্যে ফাঁক কমাতে হবে।” অন্যদিকে, বলসোনারো তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলছেন, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।” তিনি বাজারমুক্ত নীতি বজায় রেখে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অপরাধমুক্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নাগরিক সমাজের সংগঠন ও মানবাধিকার গোষ্ঠী উভয় প্রার্থীর নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে; লুলার সামাজিক নীতি অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হতে পারে, আর বলসোনারোর পরিবেশ নীতি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বাড়াতে পারে বলে সতর্কতা জানিয়েছে। ভোটারদের মধ্যে এই দুই প্রার্থীর প্রতি মতবিনিময় তীব্র, শহুরে ও গ্রামীণ এলাকায় সমর্থনভিত্তি ভিন্নভাবে বিতরণ হয়েছে।
ব্রাজিলের ইলেকশন কমিশন (টিএসই) আজকের ভোট গ্রহণের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এছাড়া, জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ ভোটকেন্দ্রের চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলও ভোট গ্রহণে অংশগ্রহণ করবে, যাতে ফলাফলকে বৈধতা প্রদান করা যায়। কমিশন প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালু করবে এবং কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। ফলাফল যদি লুলা দা সিলভা বা বলসোনারোর মধ্যে এককে সীমাবদ্ধ হয়, তবে দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশিত।