যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে গ্লোবাল জি-৭ দেশগুলো আগামী সপ্তাহে মোট দশ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব বিস্তার এবং দেশীয় ভোটারদের কাছে শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তেল মুক্তির ঘোষণা তৎক্ষণাৎ বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির আশার সঞ্চার করেছে।
গ্লোবাল জি-৭ গোষ্ঠী পূর্বে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত নীতি গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তবে গত কয়েক মাসে রাশিয়ার তেল রপ্তানি সীমাবদ্ধতা, চীন ও ভারতীয় চাহিদা বৃদ্ধি এবং ইউরোপে গ্যাসের ঘাটতি ইত্যাদি কারণে তেলের দামের ওঠানামা তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপের পেছনে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি, তেল শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং গ্লোবাল তেল বাজারে আমেরিকান প্রভাব পুনরুদ্ধার করার কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে। তদুপরি, গি-৭ দেশগুলোকে সমন্বিতভাবে তেল মুক্তি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং তেলের দামের অস্থিরতা কমানোই প্রধান উদ্দেশ্য।
এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র তেল মুক্তি “জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ” বলে মন্তব্য করেন। গি-৭ গোষ্ঠীর স্পোকসপার্সন তেল মুক্তি “বাজারের স্বচ্ছতা ও সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে” বলে জোর দেন। বাংলাদেশে জ্বালানি মন্ত্রণালয় তেল মুক্তি সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, “এই পদক্ষেপ আমাদের দেশে জ্বালানি দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে” বলে জানায়। তবে কিছু বিশ্লেষক ও ভোক্তা গোষ্ঠী উদ্বেগ প্রকাশ করে, তেল মুক্তি স্বল্পমেয়াদে দামের হ্রাস ঘটাতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি নীতি পরিবর্তনের ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
গি-৭ দেশগুলো ইতিমধ্যে তেল মুক্তির বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করেছে; তেল সরবরাহের পরিমাণ ধাপে ধাপে মুক্তি দেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক তেল সংস্থার তত্ত্বাবধানে বাজারে সমতা রক্ষা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল মন্ত্রণালয় তেল মুক্তির পর্যালোচনা ও মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তৃতীয় পক্ষের অডিট ব্যবস্থা চালু করবে। বাংলাদেশে সরকার তেল মুক্তির ফলে সম্ভাব্য দামের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে, তেল শুল্কে সাময়িক সমন্বয় এবং জ্বালানি সঞ্চয় নীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে গি-৭ তেল মুক্তি আন্তর্জাতিক তেল বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী কৌশল ও গ্লোবাল জ্বালানি নীতির সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হবে।