গত সপ্তাহের সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি স্টার মিলনায়তনে রোচনা মজুমদারের রচিত নতুন বই ‘আবুল মনসুর আহমদের পূর্ব বাংলা’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশের সাহিত্যিক ও গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং সাধারণ পাঠকদের বিশাল সমাবেশে এই অনুষ্ঠানটি গৌরবময়ভাবে সম্পন্ন হয়। বইটি পূর্ব বাংলার ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক দিকগুলোকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, যা বর্তমান সময়ে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংযোগ স্থাপন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বইটির বিষয়বস্তুর তাৎপর্য ও দেশের বৌদ্ধিক সম্পদে এর অবদানের প্রতি উচ্চ প্রশংসা প্রকাশ করেন।
‘আবুল মনসুর আহমদের পূর্ব বাংলা’ রোচনা মজুমদার দশ বছরের গবেষণা ও ক্ষেত্রভ্রমণের ফলাফল, যেখানে তিনি প্রাচীন গ্রন্থ, পুরনো মানচিত্র এবং স্থানীয় লোককথা সংগ্রহ করে এক সমন্বিত ঐতিহাসিক চিত্র অঙ্কন করেছেন। পূর্ব বাংলার প্রাচীন নগরী, বাণিজ্যিক পথ, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং সামাজিক কাঠামোকে বিশ্লেষণ করে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে এই অঞ্চলটি উপমহাদেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বইটি শুধুমাত্র একাডেমিক গবেষণার ফল নয়, বরং সাধারণ পাঠকের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় রচিত, যা ইতিহাসপ্রেমী ও সাধারণ নাগরিক উভয়েরই আগ্রহ জাগাবে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রোচনা মজুমদার বইটির মূল উদ্দেশ্য ও গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “এই কাজের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার অজানা দিকগুলোকে আলোকিত করতে চেয়েছি, যাতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের ঐতিহ্যকে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করে।” প্রকাশক প্রতিনিধি বইটির বাজারজাতকরণ পরিকল্পনা ও পাঠকগোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার এবং সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। উপস্থিত বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদদের মন্তব্যে বইটি “অবিস্মরণীয় গবেষণা” ও “বাংলা ইতিহাসের নতুন দিগন্ত” হিসেবে প্রশংসিত হয়।
অধিকাংশ পাঠক ও গবেষককে বইটির ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করতে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্কৃতি অধিদপ্তর বইটি জাতীয় গ্রন্থাগার ও বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পেশ করেছে, পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে মোবাইল গ্রন্থাগার ও পাঠশালার মাধ্যমে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। প্রকাশনা সংস্থা ও বইমেলা আয়োজকরা আগামী ত্রৈমাসিকে বিশেষ সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে গবেষক ও শিক্ষার্থীরা সরাসরি লেখকের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারে। এ ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা ‘আবুল মনসুর আহমদের পূর্ব বাংলা’ কে দেশের বৌদ্ধিক সম্পদে এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে স্থাপন করবে।