সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রশাসনিক ভবনে আজ দুপুর ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ১৪ জন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তি এবং শিক্ষাগত শর্তের উন্নতি। বিক্ষোভে প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। বিক্ষোভের ফলে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রবেশদ্বার ধরে রাখেন।
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন, যার ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সুবিধা ও বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে নতুন নীতির অধীনে তাদের প্রশিক্ষণ সময়সীমা কমানো হয়েছে এবং বেতন কমানো হয়েছে। পূর্বে অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন অনুদান ও স্কিম চালু করেছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনের ফলে এই সুবিধাগুলি হ্রাস পেয়েছে।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মি. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ন্যায্য বেতন ও উন্নত প্রশিক্ষণ শর্তের দাবী করছি। আমরা অধিদপ্তরের সাথে আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সঠিক সমাধান পাওয়া যায়নি।’ শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তারা বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করতে চাই, কিন্তু এই ধরনের অবরোধ আমাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে।’ কলেজের প্রধান অধ্যাপক মিসেস সোহনা বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য অধিদপ্তরের সাথে আলোচনা করতে প্রস্তুত।’ জনসাধারণের মধ্যে এই বিক্ষোভে সমর্থন ও সমালোচনা উভয়ই দেখা যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠায় এবং বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার জন্য আলোচনা শুরু করে। কলেজ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাথে একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজন করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলি উপস্থাপন করা হবে। ভবিষ্যতে অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের বেতন ও প্রশিক্ষণ শর্ত উন্নত করার পরিকল্পনা করছে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ সভা আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।