গতকাল রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্টুডিওতে হঠাৎ এক অজানা গোষ্ঠীর আক্রমণ ঘটায়, যার ফলে সাংবাদিক সালমান মুক্তাদির শারীরিক ক্ষতি ভোগ করেন। আক্রমণের পর তিনি তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে ভোর চারটায় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, তবে কোনো রেকর্ড নেওয়া হয়নি। এই ঘটনাটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি জনসাধারণের আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত বহন করে, যা তৎক্ষণাৎ দৃষ্টিগোচর হওয়া দরকার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের ওপর হিংসাত্মক আক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ের সংবেদনশীলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংযুক্ত মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। অতীতেও একই রকম ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কর্মকর্তাদের সমালোচনা করা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও শারীরিক হিংসা করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ক্ষতি করে।
সালমান মুক্তাদির ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, "আমার স্টুডিওতে আক্রমণ হওয়ার পর আমি পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি, কিন্তু কোনো রেকর্ড নেওয়া হয়নি। এভাবে আমাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসের পক্ষ থেকে দ্রুতই একটি ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে আক্রমণটি স্বতন্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর কাজ এবং কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই। তবে জনমত ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠী এই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট সন্তোষজনক বলে মনে করে না এবং তৎক্ষণাৎ তদন্তের দাবি জানায়।
থানার প্রধান কর্মকর্তার মতে, অভিযোগের রেকর্ড না নেওয়ার কারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও মানবিক অবহেলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করার কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা জরুরি বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।