কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বৃহৎ অভিযান আজও চালু রয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ১৮টি থানার সমন্বয়ে একযোগে গৃহীত এই পদক্ষেপে মোট ৪১৫ জন কিশোর অপরাধী গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের অধিকাংশই গ্যাং সংযুক্ত গৃহস্থালির যুবক, যারা মাদক, চোরাচালান এবং হিংসাত্মক অপরাধে জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়। পুলিশের মতে, এই অভিযান গ্যাংবিরোধী নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গৃহীত, যা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে।
কুমিল্লা জেলায় গত কয়েক বছর ধরে কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত অপরাধের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাস্তায় মাদক বিক্রি, চোরাচালান এবং হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বে ২০২২ এবং ২০২৩ সালে কয়েকটি ছোট আকারের গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হলেও, অপরাধীর সংখ্যা কমে না গিয়ে পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গ্যাংবিরোধী কৌশল পুনর্বিবেচনা করে, সমন্বিত তথ্য শেয়ারিং, গ্যাং সদস্যের পরিচয় যাচাই এবং সামাজিক পুনর্বাসন প্রোগ্রাম চালু করার সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযানের পর পুলিশ প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, “এই ধরনের গ্যাংবিরোধী অভিযান আমাদের নিরাপত্তা নীতি বাস্তবায়নের মূল ভিত্তি। গ্রেফতারের মাধ্যমে অপরাধের শিকড় কাটার পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট পরিবার ও সমাজকে সচেতন করা জরুরি।” স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “যুবকরা যদি সঠিক দিকনির্দেশনা পায়, তবে গ্যাং থেকে দূরে সরে সমাজের গঠনমূলক অংশে অবদান রাখতে পারবে।” তবে কিছু পরিবার গ্রেফতারের ফলে আর্থিক ও সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে পুনর্বাসন প্রোগ্রামের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেবে।
অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, জেলা পুলিশ গ্যাংবিরোধী বিশেষ ইউনিট গঠন করে, গ্যাং সদস্যের তথ্যভাণ্ডার আপডেট এবং মাদকদ্রব্যের সরবরাহ চেইন ভাঙার কাজ দ্রুততর করবে। এছাড়া, স্থানীয় যুবকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিকল্প কর্মসংস্থান ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। সরকারও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে, গ্যাংবিরোধী আইন প্রয়োগে কঠোরতা বজায় রেখে, পুনর্বাসন ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে। এভাবে, কুমিল্লা জেলায় গ্যাংবিরোধী অভিযান দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ হ্রাস এবং নিরাপদ পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।