পিরোজপুর সদর উপজেলার পাড়েরহাট রোডে বসবাসরত ২৫ বছর বয়সী গার্গী চ্যাটার্জীকে সম্প্রতি মেরুদণ্ডের স্ফন্দিলাইটিসের অগ্রগামী পর্যায়ে নির্ণয় করা হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা এবং চলমান ব্যথা তার দৈনন্দিন কাজকর্মে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করেছে। গার্গীর পরিবার জানিয়েছে যে, রোগের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে বিশেষায়িত শারীরিক থেরাপি, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা এবং ব্যয়বহুল ঔষধের প্রয়োজন। এই জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে তাত্ক্ষণিক আর্থিক সহায়তা না পেলে গার্গীর জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তারও উল্লেখ করেছেন যে, রোগের অগ্রগতি রোধে সময়মতো শল্যচিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রোগ্রাম অপরিহার্য। গার্গীর অবস্থা বিবেচনা করে স্থানীয় সমাজের সহানুভূতি ও সমর্থন বাড়ছে, তবে তহবিলের অভাব এখনও প্রধান বাধা রয়ে গেছে।
অ্যাঙ্কিলসিং স্পন্ডিলাইটিস, যা মেরুদণ্ডের স্ফন্দিলাইটিস নামেও পরিচিত, একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ যা প্রায়শই তরুণ বয়সের পুরুষদের প্রভাবিত করে। রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলোতে পিঠে ব্যথা, নমনীয়তার হ্রাস এবং ধীরে ধীরে মেরুদণ্ডের অস্থি জোড়া হয়ে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে এই রোগের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেন যে প্রতি দশ হাজারের মধ্যে কয়েকজন রোগে আক্রান্ত। রোগের চিকিৎসা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ঔষধ, শারীরিক থেরাপি এবং কখনো কখনো শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন, যার ফলে রোগীর পরিবারে আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পায়। গার্গীর পরিবার ইতিমধ্যে রোগের চিকিৎসায় ৩.৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে, যা তাদের সঞ্চয় ও দৈনন্দিন জীবনের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলেছে।
গার্গীর পরিবার গৃহস্থালি ও প্রতিবেশীদের সমর্থন পেয়ে থাকলেও, আর্থিক সহায়তার অভাব তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। গার্গীর মা, রেহানা বেগম, স্থানীয় মঞ্চে গিয়ে বলেছিলেন, “আমাদের সন্তানকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই, কিন্তু চিকিৎসার খরচ আমাদের সামর্থ্যের বাইরে।” পিরোজপুরের প্রধান চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আলীও জানান, “গার্গীর রোগের অগ্রগতি রোধে তাত্ক্ষণিক শল্যচিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রোগ্রাম চালু করা জরুরি, তবে তার জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের প্রয়োজন।” স্থানীয় এনজিও ও ধর্মীয় সংস্থা ইতিমধ্যে দান সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু করেছে, তবে তহবিলের পরিমাণ এখনও লক্ষ্যের অর্ধেকের কম। সম্প্রদায়ের মানুষও গার্গীর সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবীভাবে খাবার ও মৌলিক সামগ্রী সরবরাহ করছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা গার্গীর মত রোগীর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ তৈরির কথা জানিয়েছেন। পিরোজপুর জেলা স্বাস্থ্য অফিসের পরিচালক জহিরুল হক উল্লেখ করেন, “সরকারি স্বাস্থ্য বীমা পরিকল্পনা বর্তমানে সীমিত, তবে বিশেষ রোগের জন্য অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে।” এছাড়া, স্থানীয় সরকারও গার্গীর চিকিৎসা খরচের অর্ধেক কভার করার জন্য জরুরি তহবিল গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে। ভবিষ্যতে রোগীর আর্থিক বোঝা কমাতে জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা স্কিমে দীর্ঘস্থায়ী রোগের জন্য বিশেষ সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। তদুপরি, সমাজের দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং দাতব্য সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গার্গীর মত রোগীর জীবনমান উন্নত করা সম্ভব হবে।