মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে গত রাত্রি অপ্রত্যাশিতভাবে একদল অচেনা ব্যক্তি প্রবেশ করে সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। গৃহস্থালীর জানালার মাধ্যমে প্রবেশ করা আক্রমণকারীরা জানালার কাঁচ ভেঙে, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং স্টুডিওর শ্রবণদর্শন উপকরণ চুরি ও নষ্ট করে। স্থানীয় পুলিশ তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে আক্রমণকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগী ও স্টুডিও কর্মীদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি জনমত তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পূর্বে বহু সামাজিক সেবা ও টিকাদান কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত, আর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিরপুরে অনধিকার প্রবেশ ও সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। বিশেষত, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশেপাশে পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা কর্মীর অভাব এই ধরনের অপরাধের সুযোগ তৈরি করেছে। অতএব, এই হামলা কেবল একক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ঘাটতির ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘বিব্রত’ বলে প্রকাশ করে, এবং তৎক্ষণাৎ তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার অপরাধী সনাক্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে এবং পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগীরা সরকারের এই প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে, দ্রুত নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে। বিরোধী দলও এই ঘটনার প্রতি সরকারের অপ্রতুল প্রস্তুতির সমালোচনা করে, এবং নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।
সরকার ইতিমধ্যে মিরপুরে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে, যা ঘটনার সময়ের সিসিটিভি রেকর্ড সংগ্রহ ও সাক্ষী সংগ্রহে নিযুক্ত। পাশাপাশি, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্টুডিওতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশদ্বার সুরক্ষা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় তহবিলের মাধ্যমে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই পদক্ষেপগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নীতি হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে একই রকম অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা হবে বলে সরকার আশ্বাস দিয়েছে।