নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের বাসুরা গ্রামে জন্ম নেওয়া এক সংবেদনশীল হৃদয়ের মানুষ মোঃ খাইরুল ইসলাম। রমজান ও শাহানাজ দম্পতির নয়নের মণি হয়ে শৈশবের দিনগুলো কেটেছে স্নেহ-মমতা আর ভালোবাসায়। মামাবাড়ির মধুর স্মৃতিমাখা দিনগুলোও আজ তাঁর জীবনের গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। ছোট্ট এই জীবন যে ক্ষণস্থায়ী—সময় যত গড়িয়েছে, কবি খাইরুল ইসলাম ততই উপলব্ধি করেছেন জীবনের এই চিরন্তন সত্য। তাই তাঁর লেখনীতে বারবার উঠে আসে জীবনের অনিত্যতা, মানুষের অহংকার, ভালোবাসা, হারানোর বেদনা এবং বাস্তবতার নানা রূপ।
ভালোবাসা থেকেই তাঁর কবিতার পথচলা। আর সেই ভালোবাসার পথ পেরিয়েই তাঁর কলমে জায়গা করে নিয়েছে বিরহ, অভিমান ও না-পাওয়ার গল্প। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতার জগতেও নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। কালিয়াকৈরের মাটি ও ঢালজোড়ার প্রকৃতি, মানুষের জীবন এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি তাঁর লেখায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। গভীর রাত যখন নিঝুম হয়ে আসে, চারপাশ যখন নীরবতায় ডুবে যায়, তখনই যেন আরও বেশি জেগে ওঠে তাঁর কবির মন। হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষের স্মৃতি, অপূর্ণ ভালোবাসা আর হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অপ্রকাশিত কথাগুলো তখন রূপ নেয় কবিতার পঙ্ক্তিতে।
জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়কে ঘিরে তাঁর লেখায় এসেছে ‘বিয়ের শাড়ি’-র মতো আবেগঘন অনুভূতি। ভালোবাসার নীল বেদনা, স্মৃতির ভার আর বিচ্ছেদের দীর্ঘশ্বাস তাঁর কবিতাকে করে তুলেছে আরও আবেগময়। এভাবেই ধীরে ধীরে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম’ নামে। চোখের জলে কাব্য লেখেন তিনি, আর অপূর্ণ প্রেমের গল্পে খুঁজে নেন জীবনের পূর্ণতার অনুভূতি। হারিয়ে যাওয়া মানুষ ও স্মৃতিকে তিনি শব্দের মালায় গেঁথে রাখেন। বুকের ভেতর জমে থাকা হাজারো ক্ষতকে আড়াল না করে বরং কলমের মাধ্যমে প্রকাশ করেন নিজের অনুভূতি। তাঁর কবিতায় তাই শুধু বিরহ নেই—আছে ভালোবাসার স্মৃতি, জীবনের বাস্তবতা, হারানোর বেদনা এবং নতুন করে বেঁচে থাকার প্রত্যয়। একাকিত্বকে সঙ্গী করে শব্দের ভুবনে নিজের গল্প লিখে চলেছেন কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম।
চোখের জলে লেখা সেই কাব্যই আজ তাঁর পরিচয়—বিরহের কবিতায় তিনি খুঁজে চলেছেন হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার স্মৃতি।