মোঃ আজিজুল হাকিম
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে অনুদান ও ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) অফিসার্স ক্লাব ‘মনমেলা’য় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এসব চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবহার এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে উত্তরাঞ্চল আর অবহেলিত থাকবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বিসিএমসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা। এ সময় বিসিএমসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ‘ইনফ্লুয়েন্স জোন’-এর বাইরে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি গ্রামের মোট ২ হাজার ২৫টি পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে ১০ কোটি ২০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা অনুদান ও ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করা হবে। নির্ধারিত হার অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা ঘরের জন্য ৮ হাজার টাকা, সেমি-পাকা ও পাকা ঘরের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং গোডাউনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষতিপূরণ বিতরণ কার্যক্রমের প্রথম দিনে ১৩০ জন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দার হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বাকি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝেও ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ।ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের তালিকায় রয়েছে উত্তর চৌহাটি, চক মহেশপুর, চেরাপাড়া, মোবারকপুর, দক্ষিণ রসুলপুর (ছোট), দক্ষিণ রসুলপুর (বড়), মধ্য দুর্গাপুর, কয়লাখনি বাজার, শাহাগ্রাম, হামিদপুর, বৈগ্রাম বাজার, বৈগ্রাম, জব্বারপাড়া, পূর্ব জব্বারপাড়া ও কাশিয়াডাঙ্গা।