ঢাকার উত্তরের গাজীপুরে গত সপ্তাহের শেষের দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মোবাইল আদালত দল তেল বিক্রেতা রেজি পাম্পে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় গ্রাহকদের জানানো হয় যে, একই পাম্পে বিক্রি হওয়া পেট্রোল ও ডিজেল প্রত্যাশিত পরিমাণের তুলনায় গড়ে ১৫ শতাংশ কম পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এই বিষয়টি গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি করে এবং তৎক্ষণাৎ মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পাম্পের মাপজোকের রেকর্ড সংগ্রহ করে এবং সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে আটক করে, যা স্থানীয় জনসাধারণের জন্য ন্যায়বিচারের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তেল পাম্পের এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দেশের জ্বালানি বাজারে দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি অংশ। পূর্বে একই রকম অভিযোগে গ্রাহক সমিতি ও ভোক্তা অধিকার সংস্থা বহুবার সরকারকে তীব্র নজরদারি ও কঠোর শাস্তি দাবি করে আসছে। তেল সংস্থার নীতি অনুসারে, পাম্পের মাপজোক যন্ত্রের নিয়মিত পরিদর্শন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক, তবে বাস্তবে অনেক পাম্পে পুরনো যন্ত্র ব্যবহার বা মাপজোকের ফলাফল গোপন করার প্রথা রয়ে গেছে। এই পটভূমি বিবেচনা করে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের হস্তক্ষেপ এই সমস্যার সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অধিকারের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পাম্পের মালিক রেজি হোসেনের বক্তব্য নেন। তিনি বলেন, “যন্ত্রের ত্রুটির কারণে পরিমাণ কম হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে নয়; ত্রুটি দ্রুত মেরামত করব।” তবে গ্রাহক সমিতির সভাপতি রাব্বি আহমেদ জানান, “এমন অবৈধ কার্যক্রমের ফলে গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে, এবং তৎক্ষণাৎ শাস্তি না দিলে অন্য পাম্পও অনুরূপ কাজ করবে।” ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শ্রীমতি সুমিতা রায় উল্লেখ করেন, “আইন অনুসারে জরিমানা এবং পাম্পের লাইসেন্স স্থগিত করা হবে, যাতে অন্যরা অনুকরণ না করে।” স্থানীয় বাসিন্দারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “অবশেষে ন্যায়বিচার এসেছে, আর আমরা নিরাপদে জ্বালানি পেতে পারব।”
ভ্রাম্যমাণ আদালত রেজি পাম্পের লাইসেন্স এক মাসের জন্য স্থগিত করে এবং অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করে। তদুপরি, জেলা প্রশাসক তেল পাম্পের মাপজোক যন্ত্রের পুনরায় ক্যালিব্রেশন এবং মাসিক র্যাণ্ডম চেকের নির্দেশ দেন। সরকারও এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে তেল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্বচ্ছতা প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যেখানে ডিজিটাল মাপজোক সিস্টেম এবং গ্রাহক অভিযোগের ত্বরিত সমাধান ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বাড়িয়ে তেল পাম্পের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হবে, যাতে গ্রাহকের অধিকার রক্ষায় কোনো ফাঁক না থাকে।