গত সাত বছর অর্ধেকের মধ্যে নগরে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততায় মোট ৬৩৫টি অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে হিংসাত্মক অপরাধের সংখ্যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। পুলিশ তথ্য অনুযায়ী, গ্যাং সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ৩৯টি, যা পূর্বের দশকের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি গ্যাংয়ের শীর্ষস্থানীয় ‘বড় ভাই’ বদল হওয়ায় গ্যাংয়ের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতিতে তীব্র পরিবর্তন দেখা দিয়েছে; নতুন নেতৃত্বের অধীনে গ্যাং সদস্যদের মধ্যে হিংসা, গ্যাং সংঘর্ষ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের হার দ্রুত বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি নগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং জনসাধারণের উদ্বেগের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের উত্থানের পেছনে বহু সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ কাজ করে আসছে। শহরের নিম্নবিত্ত এলাকায় শিক্ষার সুযোগের অভাব, বেকারত্বের উচ্চ হার এবং পরিবারিক সমর্থনের ঘাটতি তরুণদের অপরাধের পথে ধাবিত করে। পূর্বে গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি দীর্ঘকাল ধরে গ্যাংকে একত্রে রাখার পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করতেন; তবে তার অবসরের পর নতুন নেতৃত্বের আগমন গ্যাংকে আরও স্বৈরাচারী ও হিংসাত্মক রূপে রূপান্তরিত করেছে। গ্যাং সদস্যরা প্রায়ই সামাজিক মিডিয়া ও গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে, যা তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রমকে দ্রুত বিস্তৃত করে তুলেছে।
পুলিশের মুখপাত্রের মতে, গ্যাংয়ের নতুন ‘বড় ভাই’ অপরাধের পরিধি বাড়াতে এবং সদস্যদের মধ্যে হিংসা বৃদ্ধি করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন; ফলে গ্যাং সদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যা, গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং অপরাধের পরিণতি স্বীকার না করার প্রবণতা বাড়ছে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও এনজিও প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, গ্যাং সদস্যদের পুনর্বাসন ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধির জন্য যথাযথ সহায়তা না পেলে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। পরিবারিক সদস্য ও প্রতিবেশীরা গ্যাংয়ের হিংসাত্মক আচরণে ভয় পেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়ে নিয়েছেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও কর্মী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
অপরাধ দমন ও গ্যাংবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশ বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে গ্যাং সদস্যদের গ্রেপ্তার, গ্যাং গোপন ঘাঁটি ধ্বংস এবং অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, যুব পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন, শিক্ষামূলক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং মানসিক পরামর্শ সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্যাং থেকে বেরিয়ে আসা যুবকদের পুনরায় সমাজে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারও গ্যাংবিরোধী আইন প্রণয়ন ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে সমন্বয় বাড়িয়ে তুলবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাংবিরোধী নীতি ও সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে নগরের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং যুব সমাজের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা হবে।