কিয়েভের কেন্দ্রীয় এলাকায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে রাশিয়ার ড্রোন দ্বারা আকস্মিক হামলা চালানো হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের কিয়েভ সফরের ঠিক পরেই শহরের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জরুরি সতর্কতা জানানো হয়। সেতুটি দেশের প্রধান পরিবহন জালের একটি অংশ, যার ধ্বংস বা ক্ষতি দেশের অভ্যন্তরীণ সংযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনার ফলে কিয়েভের নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্কের স্রোত প্রবাহিত হয় এবং নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই সপ্তাহে জার্মান চ্যান্সেলরের কিয়েভ সফর ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। মের্ৎসের সফরে ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা, পুনর্নির্মাণ এবং ইউরোপীয় সংহতির ওপর আলোচনা হয়। সেতুটি, যা কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করে, যুদ্ধের শুরুর পর থেকে বহুবার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে, তবে পূর্বে কোনো সরাসরি আকাশীয় আক্রমণ ঘটেনি। রাশিয়ার সামরিক কৌশলে এই সেতুকে আক্রমণ করা মানে কিয়েভের লজিস্টিক শৃঙ্খলকে ব্যাহত করা এবং আন্তর্জাতিক আলোচনার মুহূর্তে মনোযোগ বিচ্যুত করা।
হামলার পরপরই ইউক্রেনের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও কিয়েভের মেয়র জরুরি বিবৃতি প্রকাশ করে রাশিয়ার আক্রমণকে “অবৈধ ও নিষ্ঠুর” বলে নিন্দা করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে আহ্বান জানান। চ্যান্সেলর মের্ৎসের দফতরও কিয়েভে তার সফরের সময়ে রাশিয়ার এই হঠাৎ আক্রমণকে “অসহনীয়” বলে মন্তব্য করে, তবে কোনো সরাসরি মন্তব্য না করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুতে গিয়ে ধ্বংসাবশেষ ও ধোঁয়ার গন্ধ বর্ণনা করে, কিছু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমতকে আরও উত্তেজিত করে এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
উত্তরদায়িত্বে থাকা ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী অবিলম্বে সেতুর আশেপাশে নিরাপত্তা জোরদার করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশের জরুরি মেরামতের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে। সরকার রাশিয়ার এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি আলোচনা দাবি করে। পাশাপাশি, জার্মান সরকার কিয়েভে তার নিরাপত্তা দলকে বাড়িয়ে দেয় এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করার প্রস্তুতি জানায়। ভবিষ্যতে সেতুর পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে এমন আক্রমণ পুনরায় না ঘটে এবং দেশের অবকাঠামো স্থিতিশীল থাকে।